শোলার ইতিহাস আকর্ষণীয় যা বাংলার পৌরাণিক কাহিনী এবং লোককাহিনীর মধ্যে কিংবদন্তির মতো জড়িয়ে আছে।

জুন-জুলাই মাস অর্থাৎ বর্ষার সময় ৪-৫ ফুট জলের নিচে শোলা চাষ হয়। প্রয়োজনীয় জলাভূমির অভাবে কেবল দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বিভিন্ন অঞ্চলেই শোলা চাষকে সীমাবদ্ধ করেছেন চাষীরা। তাঁরা অর্থকরী ফসল হিসাবে শোলার চাষ করেন।
Geographical Location : The tradition of sholapith craft stretches throughout Bengali, covering the districts of Cooch Behar, Alipurduar, Dinajpur, Malda, Murshidabad, Birbhum, Burdwan and South 24 Parganas with prominent diversities in each region.
ঐতিহ্য ও সমসাময়িক ব্যবহারে শোলা
প্রায় প্রতিটি বাঙালি আচার ও ক্রিয়াকর্মে “চাঁদমালা”, “কদমফুল” এবং শোলার মালার ব্যবহার সর্বজনবিদিত। রংপুর এর ঐতিহ্যে বিবাহ, জানাজা, এবং সন্তানের প্রথম আনুষ্ঠানিক খাবার ইত্যাদিতে সর্বত্র এবং সর্বব্যাপী “সাইতল” এর ব্যবহার রয়েছে। সাপ, উর্বরতা এবং ধনসম্পদের দেবী মনসার উপাসনা, “মনসার চালি” ব্যতীত অসম্পূর্ণ। – এটি দেবী মনসার মাথার উপরে সাপের ফনার আকৃতির একটি চাঁদোয়া। এই মুকুট শোলা থেকে তৈরি করা হয়। শোলা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সময়কালে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। “পিথ হেলমেট” এশিয়া এবং আফ্রিকার উপনিবেশগুলিতে ব্যবহৃত হত। ব্রিটিশ রাজের পরেও শোলার টুপি ঔপনিবেসিকদের প্রতীকী হয়ে থেকে যায়।
খেলনা, ঘর সাজানোর জিনিষপত্র এবং শোলার তৈরি অলংকার ইত্যাদি অবশ্যই পরিবেশ বান্ধব এবং নান্দনিক। ক্ষুদ্র স্মারক এবং মূর্তিগুলির মতো সুক্ষ খোদাই করা জিনিসগুলি মূল্যবান স্মৃতি স্মারক হিসেবে পরিগণিত হয়। এগুলি কেবলমাত্র একজন সুদক্ষ কারুশিল্পীর দর্শনীয় শিল্পকীর্তির দুর্দান্ত প্রদর্শন করে তাই নয়, তারা বহন করে গৌরবময়, ভারতীয় ঐতিহ্যের সুমহান পরম্পরা।
